recipes.bd

আলু ভর্তা

সেদ্ধ আলু, কাঁচা পেঁয়াজ আর সরিষার তেলের সহজ ভর্তা।

২৫ মিনিট, ৩ জনের জন্য

আলু ভর্তা রান্নার ছবি

উপকরণ

প্রণালি

  1. আলু সেদ্ধ করে খোসা ছাড়িয়ে নিন।
  2. শুকনা মরিচ তেলে হালকা ভেজে নিন।
  3. বাটিতে আলু, ভাজা মরিচ, পেঁয়াজ, কাঁচা মরিচ ও লবণ দিয়ে হাত দিয়ে চটকান।
  4. সরিষার তেল ও ধনেপাতা মিশিয়ে ভাতের সঙ্গে পরিবেশন করুন।

আলু ভর্তা: সবচেয়ে চেনা ভর্তা

আলু ভর্তা বাংলাদেশের সবচেয়ে সহজ আর সবচেয়ে চেনা ভর্তা। সেদ্ধ আলু, সরিষার তেল, কাঁচা পেঁয়াজ আর মরিচ মিলে যে স্বাদ তৈরি হয় তা ডাল-ভাতের সঙ্গে অনবদ্য। খুব অল্প উপকরণ আর সময়ে হয় বলে অনেকেই ব্যস্ত দিনে এটা বেছে নেন।

ভর্তার রান্নায় আগুন প্রায় নেই, তাই স্বাদ আসে মূলত কাঁচা উপকরণ আর সরিষার তেলের ঝাঁঝ থেকে। এ কারণে তেলের মান আর আলুর ধরনের ওপর স্বাদ বেশ নির্ভর করে।

আলু ও তেলের কথা

আলু খোসাসহ সেদ্ধ করুন, এতে আলু পানি কম শোষে এবং ভর্তা ঝরঝরে হয়। বেশি সেদ্ধ করলে আলু গলে পানি-পানি হয়ে যায়। সেদ্ধ হওয়ার পর কিছুক্ষণ রেখে বাষ্প ঠান্ডা হলে খোসা ছাড়ান, তাতে হাত পুড়বে না।

সরিষার তেল কাঁচা অবস্থায় দেওয়া হয়, তাই ভালো মানের ঝাঁঝালো তেল নিন। শুকনা মরিচ তেলে হালকা ভেজে ভর্তায় মেশালে ধোঁয়াটে ঝাল আসে।

মাখানোর কৌশল

সব উপকরণ বাটিতে নিয়ে হাত দিয়ে চটকাতে হয়। ব্লেন্ডারে না করাই ভালো, কারণ তাতে আলু আঠালো হয়ে যায়। কিছু টুকরা আস্ত থাকলে খেতে মজা বেশি। প্রথমে লবণ আর মরিচ চটকে নিন, তারপর তেল ও পেঁয়াজ মেশান।

পেঁয়াজ কাঁচা খেতে ঝাঁঝ লাগলে কুচি করে কিছুক্ষণ পানিতে ভিজিয়ে পানি ঝরিয়ে নিন। ধনেপাতা শেষে ছড়ালে ঘ্রাণ ও রং ভালো থাকে।

পরিবেশন ও সংরক্ষণ

ডাল-ভাত, খিচুড়ি বা শুধু গরম ভাতের সঙ্গে খাওয়া যায়। এটা বানানোর পরপরই খাওয়া ভালো, রেখে দিলে আলু শক্ত হয়ে যায় এবং স্বাদ কমে। প্রয়োজনে ঢেকে ফ্রিজে রাখতে পারেন, তবে খাওয়ার আগে ঘরের তাপমাত্রায় আনুন।

রকমফের

সাধারণ আলু ভর্তার বাইরে এর অনেক ধরন আছে। কেউ ভাজা পেঁয়াজ আর শুকনা মরিচ মিশিয়ে আরও ঝাঁঝালো করেন। কেউ সামান্য রসুন কুচি যোগ করেন। কেউ আবার আলুর সঙ্গে সেদ্ধ ডিম বা ভাজা চিংড়ি চটকে ভর্তাকে আরও ভরপুর করেন। কাঁচা আমের কুচি দিলে টক ও ঝাঁঝের মিশ্রণে আলাদা স্বাদ আসে, বিশেষ করে গ্রীষ্মকালে এটা বেশ জনপ্রিয়।

মিষ্টি আলুর ভর্তাও এই একই পদ্ধতিতে করা যায়, তবে তাতে কাঁচা মরিচ আর লেবুর রস একটু বেশি দিলে মিষ্টি ভাব সামলানো যায়।

ভর্তার সঙ্গে কী পরিবেশন করবেন

আলু ভর্তা একা খেলেও ভালো, কিন্তু অন্য পদের সঙ্গে মিলিয়ে খেলে ভাতের থালা পূর্ণ হয়। মসুর ডাল, ভাজা মাছ আর শাকভাজির সঙ্গে এটা চিরচেনা। গরমের দিনে পান্তা ভাতের সঙ্গে আলু ভর্তা, কাঁচা মরিচ আর পেঁয়াজ অনেকের প্রিয়। বাচ্চাদের জন্য ঝাল কম রেখে সামান্য ঘি মিশিয়ে দিতে পারেন, তাতে খেতে আরাম লাগে। ভর্তা বানানোর সময় সবসময় হাত ভালো করে ধুয়ে নিন, কারণ এটা রান্না না করে কাঁচা অবস্থায় খাওয়া হয়।

বাচ্চাদের জন্য সংস্করণ

বাচ্চাদের পছন্দ মাথায় রেখে আলু ভর্তা সহজে মানিয়ে নেওয়া যায়। কাঁচা মরিচ আর শুকনা মরিচ বাদ দিয়ে সামান্য ঘি বা মাখন মিশিয়ে নিন, সরিষার তেল খুব অল্প দিন। পেঁয়াজ খুব ছোট কুচি করুন বা বাদ দিন। এতে ভর্তা নরম ও মিষ্টি লাগে, যা ছোটদের কাছে সহজে গ্রহণযোগ্য হয়। এই সংস্করণ দিয়ে শিশুদের ভাত মাখিয়ে খাওয়ানোও সহজ হয়, কারণ এতে কোনো শক্ত বা ঝাল টুকরা থাকে না।

সাধারণ প্রশ্ন

আলু ভর্তা কি ভাজা আলু দিয়ে করা যায়?

যায়। ভাজা আলু দিলে স্বাদ আলাদা হয়, কিছুটা মচমচে ভাবও থাকে।

ঝাল কীভাবে বাড়াব?

কাঁচা মরিচের সংখ্যা বা ভাজা শুকনা মরিচ বাড়িয়ে দিন। বীজ সরিয়ে নিলে ঝাল কিছুটা কমে।

তেল কম দিয়ে কি করা যায়?

যায়, তবে তেল না দিলে ভর্তার চেনা স্বাদ থাকবে না। অল্প তেলেই সুবাস পাওয়া যায়।

ভর্তার আরও রেসিপি