টমেটো ভর্তা
পোড়া টমেটো, পেঁয়াজ আর সরিষার তেলের টক-ঝাল ভর্তা।
১৫ মিনিট, ৩ জনের জন্য

উপকরণ
- পাকা টমেটো ৩টি
- পেঁয়াজ কুচি ১টি
- কাঁচা মরিচ ২টি
- সরিষার তেল ১ টেবিল চামচ
- ধনেপাতা কুচি সামান্য
- লবণ স্বাদমতো
প্রণালি
- টমেটো আগুনে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে পুড়িয়ে নিন, খোসা তুলে ফেলুন।
- পোড়া টমেটো চটকে নিন।
- পেঁয়াজ, কাঁচা মরিচ, লবণ ও ধনেপাতা মেশান।
- সরিষার তেল দিয়ে মাখিয়ে পরিবেশন করুন।
টমেটো ভর্তা: টক-ঝালের সহজ পদ
টমেটো ভর্তা টক, ঝাল আর ধোঁয়াটে গন্ধের এক সহজ পদ। পাকা টমেটো আগুনে পুড়িয়ে চটকে সরিষার তেল ও কাঁচা পেঁয়াজ মিশিয়ে তৈরি এই ভর্তা মাত্র ১৫ মিনিটে হয়ে যায়। খিচুড়ি, ডাল-ভাত বা পান্তা, সবকিছুর সঙ্গেই এটা চমৎকার মানায়।
ভাতের পাতে একটু টক-ঝাল চাইলে এই ভর্তা সবচেয়ে সহজ সমাধান।
টমেটো বাছাই
পাকা, টকটকে লাল, ভারী টমেটো নিন। শক্ত বা কাঁচা টমেটোতে টক বেশি, রস কম। মাঝারি আকারের টমেটো সমানভাবে পোড়ানো সহজ।
টমেটোর রসে লবণ মিশলে পানি ছাড়ে, তাই লবণ ভর্তা বানানোর শেষ মুহূর্তে দেবেন।
পোড়ানোর কৌশল
টমেটো সরাসরি আগুনে, গ্যাসের চুলার ওপর বা সিকে বিঁধে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে পোড়ান। খোসা ফেটে কালচে হয়ে এলে এবং টমেটো নরম হলে নামান। ঠান্ডা হলে খোসা ছাড়ান। চুলা না থাকলে তাওয়ায় বা ওভেনেও পোড়ানো যায়।
চটকে নিয়ে পেঁয়াজ কুচি, কাঁচা মরিচ, ধনেপাতা আর সরিষার তেল মেশান। পানি বেশি থাকলে একটু ঝরিয়ে নিন। চাইলে ভাজা শুকনা মরিচ বা রসুন কুচি দিয়ে স্বাদ বাড়ানো যায়।
পরিবেশন ও সংরক্ষণ
ভাতের সঙ্গে খাওয়ার সময় একটু লেবুর রস দিলে স্বাদ আরও খোলে। বেশিক্ষণ রেখে দিলে পানি ছাড়ে, তাই বানানোর পরপরই পরিবেশন করুন। বাড়তি থাকলে ফ্রিজে একদিন রাখা যায়।
রকমফের
টমেটো ভর্তার মূল রেসিপি সরল হলেও এর অনেক রূপ আছে। কেউ ভাজা শুকনা মরিচ গুঁড়া করে দেন, যাতে ধোঁয়াটে ঝাল বাড়ে। কেউ রসুন কুচি তেলে হালকা ভেজে ওপরে ছড়ান। কেউ আবার সামান্য তেঁতুলের রস মেশান, আর তাতে টক-মিষ্টি ভারসাম্য আসে। চিংড়ি শুঁটকি ভেজে গুঁড়া করে মেশালে ভর্তা একেবারে অন্যরকম হয়ে যায়। কাঁচা পেঁয়াজের বদলে ভাজা পেঁয়াজ দিলে স্বাদ নরম হয়। পুদিনা বা ধনেপাতা কুচির পরিমাণ বাড়িয়ে সতেজ ঘ্রাণ আনা যায়।
টমেটো খুব রসালো হলে ভর্তা পাতলা হতে পারে, তাই তুলনামূলক শক্ত ও মাংসল টমেটো বেছে নিন।
বিভিন্ন খাবারের সঙ্গে মেলানো
টমেটো ভর্তার টক-ঝাল স্বাদ অনেক খাবারের সঙ্গে ভালো মেলে। গরম ভাত ও ডালের সঙ্গে এটা প্রতিদিনের খাবারে বৈচিত্র্য আনে। খিচুড়ির সঙ্গে ভর্তা আর ডিম ভাজা শীত-বর্ষার জনপ্রিয় জুটি। পান্তা ভাতের সঙ্গে টমেটো ভর্তা, কাঁচা মরিচ আর পেঁয়াজ গ্রীষ্মের সকালের পরিচিত খাবার। এছাড়া ভাজা মাছের পাশে একটু ভর্তা রাখলে মাছের তেলতেলে ভাব সামলানো যায়। রুটি বা পরোটার সঙ্গেও কেউ কেউ এটা চাটনির মতো খান। এভাবে একটি সহজ ভর্তা অনেক ধরনের খাবারের সঙ্গে ব্যবহার করা যায়।
সময়ের হিসাব
পুরো ভর্তা বানাতে সব মিলিয়ে ১৫ মিনিটের মতো লাগে। প্রথম পাঁচ মিনিট যায় টমেটো পোড়াতে, পরের পাঁচ মিনিট খোসা ছাড়িয়ে চটকাতে, আর বাকি সময় অন্য উপকরণ মেশাতে। রান্নার ফাঁকে একই চুলায় ডাল বা তরকারি বসিয়ে রাখলে সময় বাঁচে। আগে থেকে পেঁয়াজ ও মরিচ কুচি করে রাখলে কাজ আরও দ্রুত হয়। ভর্তা বানিয়ে ফেলে রাখলে পানি ছাড়ে, তাই খাওয়ার ঠিক আগে মাখা সবচেয়ে ভালো।
সতর্কতার কথা
টমেটো আগুনে পোড়ানোর সময় সাবধান থাকুন। টমেটো ফেটে গরম রস ছিটকে আসতে পারে, তাই লম্বা সিক বা চিমটা ব্যবহার করুন এবং সরাসরি হাত দিয়ে ধরবেন না। বাচ্চাদের রান্নাঘর থেকে দূরে রাখুন। পোড়া খোসা ছাড়ানোর আগে টমেটো পুরোপুরি ঠান্ডা হতে দিন। পোড়া অংশ সামান্য ভর্তায় রয়ে গেলে ধোঁয়াটে স্বাদ আসে, তবে বেশি পোড়া কালো অংশ তেতো লাগতে পারে, তাই বেছে ফেলুন।
সাধারণ প্রশ্ন
টমেটো পোড়ানো ছাড়া করা যায়?
যায়, কাঁচা টমেটো কুচিয়ে নিয়ে মেখে নিলেও হয়। তবে ধোঁয়াটে স্বাদটা থাকবে না।
ভর্তা পানি ছাড়লে কী করব?
চটকানোর পর চালুনিতে অল্প সময় রেখে বাড়তি পানি ঝরিয়ে নিন। অথবা সেই পানিসহ ভাতে মেখে খেয়ে নিন, ওটাতেও স্বাদ আছে।
ঝাল বেশি হলে কী করব?
একটু টমেটো বা পেঁয়াজ বাড়িয়ে নিন। ঝাল সামলাতে সামান্য চিনি বা লেবুর রসও কাজে লাগে।