দুধ সেমাই
ঘিয়ে ভাজা সেমাই আর ঘন দুধে তৈরি ঈদের মিষ্টি।
২৫ মিনিট, ৪ জনের জন্য

উপকরণ
- সেমাই ১ কাপ
- দুধ ৩ কাপ
- চিনি আধা কাপ
- ঘি ১ টেবিল চামচ
- এলাচ ২টি
- কিশমিশ ও কাজুবাদাম ২ টেবিল চামচ
প্রণালি
- ঘিয়ে সেমাই হালকা বাদামি করে ভেজে তুলে রাখুন।
- দুধে এলাচ দিয়ে ফুটিয়ে ১০ মিনিট জ্বাল দিন।
- সেমাই ও চিনি দিয়ে ৫ মিনিট নাড়ুন।
- কিশমিশ ও কাজুবাদাম মিশিয়ে ঘন হলে নামান।
দুধ সেমাই: ঈদের সকালের মিষ্টি
দুধ সেমাই ঈদের সকালের আনন্দের নাম। ঘিয়ে ভাজা সেমাই, ঘন দুধ আর চিনির এই মিষ্টান্ন প্রায় ২০ মিনিটে হয়ে যায়, আর তাই অতিথি এলে দ্রুত বানানোর জন্য সবচেয়ে সুবিধাজনক। এলাচের গন্ধ আর কিশমিশ-কাজুর কুড়মুড়ে ভাব এর মজা বাড়ায়।
অনেক বাড়িতে ঈদের দিন সকালবেলা অতিথিকে প্রথমেই সেমাই পরিবেশন করা হয়।
সেমাই ও দুধ
বাজারে সাদা ও বাদামি দুই ধরনের সেমাই পাওয়া যায়। আগে থেকে ভাজা সেমাই কিনলে ভাজার ঝামেলা থাকে না, আবার সাদা সেমাই ঘিয়ে ভেজে নিলে সুগন্ধ বাড়ে। দুধ ঘন ও ফুল ক্রিম নিলে সেমাই ভালো লাগে।
চিনির পরিমাণ রুচি অনুযায়ী ঠিক করুন। কেউ কেউ কনডেন্সড মিল্ক মেশান, তবে তখন চিনি কম দিতে হয়।
ভাজা ও জ্বাল দেওয়ার কৌশল
ঘিতে সেমাই ভাজার সময় আঁচ কম রাখুন এবং নাড়তে থাকুন। হালকা বাদামি হলেই তুলুন, নইলে পুড়ে তেতো হয়ে যায়। দুধ আলাদা পাত্রে ১০ মিনিট ফুটিয়ে ঘন করে নিন। তারপর ভাজা সেমাই ও চিনি দিয়ে ৫ মিনিট নেড়ে রান্না করুন।
সেমাই দুধ শুষে ফুলে যায়, তাই দুধ বেশি ঘন হয়ে গেলে ঠান্ডা হওয়ার পর শুকনো লাগবে। এ কারণে চুলা থেকে নামানোর সময় একটু ঢিলে রাখা ভালো।
পরিবেশন ও সংরক্ষণ
গরম বা ঠান্ডা, দুভাবেই পরিবেশন করা যায়। ওপরে কিশমিশ আর কাজুবাদাম ছড়িয়ে দিন। ফ্রিজে ঢেকে রাখলে দুই দিন চলে। খাওয়ার সময় সামান্য গরম দুধ বা পানি মিশিয়ে ঢিলা করে নিন।
রকমফের
দুধ সেমাইতে অনেকে কনডেন্সড মিল্ক মিশিয়ে আরও ঘন ও ক্রিমি করেন। কেউ কেউ নারকেল কোরা বা খোয়া ক্ষীর যোগ করেন। কিশমিশ, কাজুবাদাম, পেস্তা আর আমন্ডের কুচি ছড়ালে ঈদের আয়োজন আরও জমে ওঠে। কেউ চিনির বদলে গুড় ব্যবহার করেন, তবে সেক্ষেত্রে আঁচ থেকে নামিয়ে গুড় মেশানো ভালো। জর্দার ধরনে এতে হলুদ খাবার রং ও কেওড়া জল যোগ করা যায়।
সেমাইয়ের ধরন বদলালে রান্নার সময়ও বদলায়, তাই প্যাকেটের নির্দেশনা একবার দেখে নিন।
ঈদের সকালের পরিকল্পনা
ঈদের সকালে অনেক কাজের চাপ থাকে, তাই দুধ সেমাই আগের রাতে প্রায় তৈরি করে রাখলে সুবিধা। সেমাই ভেজে ও দুধ ঘন করে আলাদা পাত্রে রাখুন। সকালে শুধু একসঙ্গে মিশিয়ে কয়েক মিনিট জ্বাল দিলেই হয়ে যায়। অতিথির সংখ্যা বেশি হলে ছোট ছোট বাটিতে আলাদা করে পরিবেশন করুন, তাতে সবাই সমান ভাগ পান। ঠান্ডা সেমাই পছন্দ করলে ফ্রিজে রেখে দিন, তবে ঠান্ডা হলে ঘন হয়ে যায় বলে পরিবেশনের আগে সামান্য দুধ মিশিয়ে ঢিলা করে নিন। সাজানোর বাদাম ও কিশমিশ শেষ মুহূর্তে দিন, আগে দিলে নরম হয়ে যায়।
দুধ সেমাই কেন এত প্রিয়
এই মিষ্টান্নের জনপ্রিয়তার কারণ এর সহজতা ও আরাম। অল্প উপকরণে দ্রুত তৈরি হয়, আর স্বাদে নরম ও মিষ্টি বলে ছোট-বড় সবাই পছন্দ করে। রান্নাঘরে খুব বেশি দক্ষতা না থাকলেও প্রথমবারেই মোটামুটি ভালো ফল পাওয়া যায়। তাই যাঁরা মিষ্টি রান্না শিখতে চান, তাঁদের জন্য এটা ভালো একটা শুরু।
মিষ্টির পরিমাণ ঠিক করা
দুধ সেমাইয়ে চিনির পরিমাণ রুচি ও সেমাইয়ের ধরনের ওপর নির্ভর করে। আগে থেকে মিষ্টি দেওয়া সেমাইয়ে চিনি কম লাগে। তাই প্রথমে অল্প চিনি দিয়ে রান্না করুন, তারপর চেখে দেখে দরকার হলে যোগ করুন। ঠান্ডা হলে মিষ্টি কিছুটা কম মনে হয়, তাই চুলা থেকে নামানোর সময় একটু বেশি মিষ্টি থাকাই ভালো। বাচ্চা বা বয়স্কদের জন্য মিষ্টি কিছুটা কম রাখতে পারেন।
সাধারণ প্রশ্ন
সেমাই না ভেজে করা যায়?
যায়, তবে ভেজে নিলে সেমাই আলাদা আলাদা থাকে এবং সুগন্ধ বেশি হয়।
সেমাই জমে গেলে কী করব?
গরম দুধ বা সামান্য পানি দিয়ে ধীরে নেড়ে ঢিলা করে নিন।
কনডেন্সড মিল্ক ব্যবহার করব?
করতে পারেন। তখন চিনি কমিয়ে দিন এবং মিষ্টি চেখে দেখে ঠিক করুন।